কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সাধারণ মানুষের হয়রানির বিরুদ্ধে কথা বলায় এক স্বনামধন্য শিক্ষকের ওপর ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকার পরিবর্তন হলেও এই অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং সময়ের সাথে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাসপোর্ট সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা ধরণের হয়রানির শিকার হতে হয়। অফিসের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ধরিয়ে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করা হয়, যাতে তারা বাধ্য হয়ে দালালদের শরণাপন্ন হন।
অভিযোগ রয়েছে, এই দালালচক্রের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কেউ এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। কেউ কেউ গুম, মিথ্যা মামলা কিংবা শারীরিক হামলার আশঙ্কায় মুখ খুলতে সাহস পান না।
এমনই এক ঘটনায়, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এলাকার স্বনামধন্য শিক্ষক জনাব রহমান ভূঁইয়া পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হলে তার ওপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে একা পেয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারসহ বিদেশে পাড়ি জমান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “আমরা বছরের পর বছর ধরে এই হয়রানি সহ্য করছি। দালাল ছাড়া কাজ হয় না, আর প্রতিবাদ করলে জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে।”
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, “সরকার বদলালেও আমাদের দুর্ভোগের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পুরনো দালালদের সাথে নতুনদের যোগসাজশে আরও শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত এই দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ফিরোজ হোসেন, কোতোয়ালি মডেল পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইন চার্জ এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম, দালালচক্র বা যেকোনো ধরনের সহিংসতার অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, “ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে এবং সাধারণ মানুষকে অনিয়মের বিষয়ে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার আহ্বান জানান।“