নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামে একই দিনে আট কিশোরীর বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল রবিবার (৭ জানুয়ারি ২০১৮) স্থানীয় সমাজকর্মীদের উদ্যোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়েগুলো বন্ধ করে। এ সময় বাল্যবিয়ে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া কয়েকজন সমাজকর্মীর ওপর হামলা ও তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুলিয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবার একই দিনে আট অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজন করে। খবর পেয়ে সমাজকর্মী সালমান হোসেন, মোঃ শাকিল আহম্মেদ, হামিদ মিয়া এবং তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি গ্রামে যান। তারা সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে মেয়েদের বয়স, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিয়েগুলো বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান।
অভিভাবকেরা তাদের অনুরোধে রাজি না হলে সমাজকর্মীরা স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে চার থেকে পাঁচজন পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ বিয়ের আয়োজনকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে এবং যাচাই-বাছাইয়ের পর আটটি বিয়েই বন্ধ করে দেয়।
পুলিশের হস্তক্ষেপ চলাকালে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতা মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে আসা এবং পরে সেখানে জড়ো হওয়া প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি বিয়ে বন্ধের বিরোধিতা করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। তারা পুলিশের পদক্ষেপ এবং সমাজকর্মীদের উদ্যোগকে ধর্মবিরোধী বলে আখ্যা দেন।
একপর্যায়ে মাসুম বিল্লাহ সমাজকর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি বিয়েগুলো ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী আয়োজন করা হয়েছে দাবি করে সেগুলো বন্ধ না করার কথা বলেন। এ সময় সমাজকর্মীদের গালাগাল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সালমান হোসেন, মোঃ শাকিল আহম্মেদ, হামিদ মিয়া এবং তাদের সঙ্গে থাকা অন্যদের ধাক্কা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সালমানকে ধর্ম ও স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের অসম্মান করার অভিযোগ তুলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দুই পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা হামলার শিকার সমাজকর্মীদের নিরাপদে এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যান। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাল্যবিয়ে বন্ধে পুলিশের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের উপস্থিতিতে সমাজকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে মাসুম বিল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।