শিরোনাম :
কর্মীকে গুলি করে বিকাশ এজেন্টের ‘৩ কোটি টাকা’ ছিনতাই এলপিজি: রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ থেকে যেভাবে আমদানি ও বেসরকারি খাতনির্ভর বিরাট বাজার পঞ্চগড়ে গোপনে নারীর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, দুই যুবক কারাগারে আশুলিয়ায় তুলার গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট তিন মাসের মধ্যে চালু হবে সিলেটের ২৫০ শয্যার সেই হাসপাতাল সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, খোঁজ মেলেনি ২ হাজার ৩৮ জনের: পুলিশ সাত দিনের মধ্যে ওসমানী হাসপাতালের সব সমস্যার সমাধান হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘প্রথমবার চালু হয়েছে মহিলা বাস, সিলেটের মেয়ে হয়ে এর অংশ হতে পেরে গর্বিত’ গোয়াইনঘাটে মেছোবিড়াল পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ছড়ানো হলো ফেসবুকে
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

ব্যবসায়ী ও তার পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

সিলেট সংবাদদাতা: / ৩৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৩

সিলেটের বিশ্বনাথ এলাকার ব্যবসায়ী হুসাইন আল মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, তার সাবেক ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপক রাহাত আহমেদ এবং রাহাতের আত্মীয় পুলিশের একজন পরিদর্শক রউফ খানের প্রভাব ও রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি, হুমকি ও হয়রানি করে আসছেন।

মাহমুদ-এর অভিযোগ, ২০২১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাহাত আহমেদ ও তার কয়েকজন সহযোগী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তার ব্যবসা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তী সময়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, রাহাত তার রাজনৈতিক ও পুলিশি যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে তাকে ভয় দেখাতেন। রাহাতের চাচাতো ভাই রউফ খান বাংলাদেশ পুলিশের একজন পরিদর্শক হওয়ায় তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার বিষয়ে আশঙ্কা করতেন।

২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাহাত আহমেদ ও তার সহযোগীরা মাহমুদ-এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর তিনি পুলিশের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তার অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যকর কোনো সুরক্ষা বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

হুমকি ও হয়রানির কারণে মাহমুদ ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান। তবে বিদেশে যাওয়ার পরে তার বোন ফারজানা বেগমকেও রাহাত আহমেদ হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১ অক্টোবর ফারজানা বাড়ি ফেরার পথে রাহাত তার পথরোধ করে আপত্তিকর প্রস্তাব দেন এবং প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অপমানজনক ও মিথ্যা কথা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ফারজানার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার চেষ্টা করা হলেও রাহাতের আত্মীয় পুলিশ কর্মকর্তা রউফ খানের প্রভাবের কারণে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের অনুরোধে মাহমুদ গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ৩ নভেম্বর তিনি তার বোনকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানান এবং রউফ খানের বিরুদ্ধে তার পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে রাহাতকে সহযোগিতা করার অভিযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে হুসাইন জানান।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করার বিষয়টি জানতে পেরে রাহাত ও রউফ ক্ষুব্ধ হন। গত ৪ নভেম্বর হুসাইনকে ফোন করে অভিযোগ করার কারণ জানতে চাওয়া হয় এবং তাকে ‘ক্রসফায়ার’-এর হুমকি দেওয়া হয় বলে মাহমুদ দাবি করেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন হুমকি পাওয়ায় তিনি নিজের জীবন নিয়ে গভীরভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে জানান।

গত সপ্তাহে রাহাত ও তার কয়েকজন সহযোগী মাহমুদ-এর বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা কয়েকটি কাগজে মাহমুদকে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন এবং তাকে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে তার ও তার বোনের কোনো অভিযোগ নেই বলে জানাতে নির্দেশ দেন। মাহমুদ স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান বলে অভিযোগ করেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

ঘটনাটির বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার কারণে তারা কার্যকর আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেন না। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

হুসাইন আল মাহমুদের অভিযোগের বিষয়ে রাহাত আহমেদ বা পুলিশ পরিদর্শক রউফ খানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


আরো সংবাদ পড়ুন...