সিলেট নগরীতে এক মোবাইল সিম ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজারের ওপর পুলিশের চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করার পর থেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, জহিরুল ইসলাম সিলেট নগরীর একটি মোবাইল সিম ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তার অভিযোগ, গত জুলাই মাসে কোতোয়ালি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা তার কাছে নিয়মিত মাসিক অর্থ দাবি করেন। অন্যথায় ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীর পরামর্শে তিনি গত আগস্ট মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দাখিলের পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার বাসায় গিয়ে তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে তার বাসায় তল্লাশির নামে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়।
ঘটনার পর তিনি স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি তাকে দেখতে যান এবং বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে ২ অক্টোবর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করা হয় বলে জানা গেছে, যা ভুক্তভোগীর মধ্যে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থার এহেন ভূমিকায় নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। তারা এই পরিস্থিতির অবসান, তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরিবারটির নিরাপত্তার দাবি জানান।