শিরোনাম :
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র নিয়ে ১১ জরুরি নির্দেশনা স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার মিষ্টি সুবাসসহ দুজন রিমান্ডে হাদি হত্যার দুই আসামিকে ১১ দিনের রিমান্ডের নির্দেশ দিল্লি আদালতের মামুন খালেদ ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ পাঁচ মিনিট আগেই সংসদের অধিবেশনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা সিলেটে পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল চালকের সুনামগঞ্জ-২: ভোটের মাঠে এখনও প্রাসঙ্গিক সুরঞ্জিত বব মার্লের ফুটবলপ্রেম গোলাপগঞ্জে মিথ্যা অর্থ পাচার মামলা, পুলিশি হয়রানির অভিযোগ পরিবারের
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

একজন প্রবাসীর কাহিনী: গুরুতর হয়রানি, চাঁদাবাজি ও হুমকির শিকার

স্টাফ রিপোর্টার / ১৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩

বস্ত্র খাতের পরে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রবাসীরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। তাদের এই রেমিট্যান্স- দেশের আমদানি অর্থায়নে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেছে। রেমিট্যান্স খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সহ মৌলিক চাহিদা মেটায়, জীবনমান উন্নত করে, দারিদ্র্য হ্রাস করে এবং স্থানীয় চাহিদা বাড়ায়।

প্রবাসীদের প্রেরণকৃত এই অর্থ, দেশে ঋণ ও বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়িয়েছে। তবে অনেক প্রত্যাবর্তী প্রবাসী- জালিয়াতি, চাঁদাবাজি, হয়রানি, হুমকির শিকার হন, যা প্রায়ই তাদের দেশে আগমনের সময় থেকেই শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় থেকে আগত প্রবাসীরা প্রায়ই লাগেজ হারানোসহ, কিছু বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার অশোভন- অপেশাদার আচরণের শিকার হন, ফলে তাদের লজ্জা, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক কষ্ট ভোগ করতে হয়।

২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল, তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিতরে, একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি (বেশ পরিচিত কমিউনিটি ওয়ার্কার ব্যারিস্টার রিজওয়ান হোসেন) বিমানবন্দর কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা নির্মমভাবে নির্যাতিত হন । এই ঘটনার ফলস্বরূপ, ব্যারিস্টার রিজওয়ান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন হুইলচেয়ারে ছিলেন। এই ঘটনা পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন রোধে প্রণালীগত ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। মানবাধিকার সমর্থকরা পুলিশ হেফাজতে সকল নির্যাতনের স্বাধীন তদন্ত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা দাবি করেছেন।

সম্প্রতি আমাদের স্টাফ রিপোর্টার মিরপুরের একজন অ্যাডভোকেটের কাছ থেকে, তার নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, আরো এক প্রবাসীর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এই ঘটনাটি সিঙ্গাপুরের এক প্রবাসীর কাহিনী, যিনি বাংলাদেশে এসে গুরুতর হয়রানি, চাঁদাবাজি ও হুমকির শিকার হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান। তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যার পিতা । তার পরিবার পূর্বে মালয়েশিয়ায় বসবাস করত।

তিনি আগে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা ও কাজ করেছেন। সিঙ্গাপুরের, তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগী সম্পর্ক (Patient Relations) বিভাগে দশ বছরেরও বেশি সময় কাজ করেছেন। এটি বিশ্বের অন্যতম স্বনামধন্য মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এশিয়ায় W.H.O-র অনুমোদিত রেফারেল হাসপাতাল। নিউজউইকের ২০১৯ সালের র‍্যাংকিংয়ে, এটি বিশ্বের তৃতীয় সেরা হাসপাতালের মধ্যে স্থান পেয়েছিল (https://www.straitstimes.com/singapore/health/sgh-ranked-worlds-third-best-hospital-by-newsweek)। বিদেশে থাকার সুযোগ সত্ত্বেও, তিনি কখনো অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি এবং সর্বদা মাতৃভূমির প্রতি অনুগত ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, প্রবাসী হিসেবে তিনি দুইবার চাঁদাবাজির জন্য চাপের মুখে পড়েছেন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার পক্ষ থেকে হুমকির শিকার হয়েছেন। এটি গত জানুয়ারি ২০২০ থেকে শুরু হয়, যখন তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হন। আমাদের সূত্র অনুযায়ী, তিনি সম্ভবত কিছু সরকারি সংস্থার অনৈতিক অনুরোধ (সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের জন্য) মেনে নেননি।

এছাড়া কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করে যে, তিনি সরকারবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত, কারণ তাদের কাছে তার একটি পুরনো ছবি ছিল, যেখানে তিনি উচ্চ পর্যায়ের এক ব্যক্তির সঙ্গে রয়েছেন—ব্যারিস্টার হামিদ আজাদ, প্রাক্তন সিইও, Muslim Aid, UK – ব্যারিস্টার হামিদ আজাদকে তার রাজনৈতিক সংযোগ এবং তার পরিচালিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যারিটি সংগঠন Muslim Aid-এর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কার্যক্রম ব্ল্যাকলিস্টেড হওয়ার কারণে ২০১৭ সালে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, কোন গুরুতর প্রমাণ ছাড়াই । পল্লবী থানা পুলিশ মোহাম্মদ আশিকুজ্জামানের বাড়িতে ২০২৩ সালে দুইবার তল্লাশি চালায় । তাকে বারবার থানায় ডেকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে চাপ এবং হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি ও তার পরিবার অবৈধ কারাবাস, গুম, নির্যাতন বা হত্যার আশঙ্কায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ছিলেন। অবশেষে জীবন রক্ষার জন্য, তিনি ও তার পরিবার গত জুন মাসে কানাডায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, বাংলাদেশে থাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি জব্দ করা হয়েছে এবং সাইবার সিকিউরিটি আইন ২০২৩ অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সূত্রে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ হাইকমিশন, সিঙ্গাপুর তার সম্পর্কে বিভিন্ন বাংলাদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য শেয়ার করেছে। তার বিরুদ্ধে যে আচরণ করা হয়েছে তা মানবাধিকার ও প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচারের সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে । তার বিদেশে সপরিবারে চলে যাওয়া, আমাদের জন্য এক বিরাট ক্ষতি। দেশের জন্য আমরা তার দীর্ঘ পেশাগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা হারিয়েছি—যা বিশেষত আমাদের সংকটাপন্ন স্বাস্থ্য খাতে মূল্যবান হতে পারত।


আরো সংবাদ পড়ুন...