শিরোনাম :
কর্মীকে গুলি করে বিকাশ এজেন্টের ‘৩ কোটি টাকা’ ছিনতাই এলপিজি: রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ থেকে যেভাবে আমদানি ও বেসরকারি খাতনির্ভর বিরাট বাজার পঞ্চগড়ে গোপনে নারীর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, দুই যুবক কারাগারে আশুলিয়ায় তুলার গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট তিন মাসের মধ্যে চালু হবে সিলেটের ২৫০ শয্যার সেই হাসপাতাল সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, খোঁজ মেলেনি ২ হাজার ৩৮ জনের: পুলিশ সাত দিনের মধ্যে ওসমানী হাসপাতালের সব সমস্যার সমাধান হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘প্রথমবার চালু হয়েছে মহিলা বাস, সিলেটের মেয়ে হয়ে এর অংশ হতে পেরে গর্বিত’ গোয়াইনঘাটে মেছোবিড়াল পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ছড়ানো হলো ফেসবুকে
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

এলাকায় আবার সক্রিয় কমিশনার শামীম ও অনুসারীরা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

কামাল পারভেজ, সিলেট: / ২৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েক মাস আড়ালে থাকার পর বিশ্বনাথের প্রভাবশালী কমিশনার শামীম ও তার অনুসারীরা আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রভাবশালী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তারা ধীরে ধীরে এলাকায় নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ-সমর্থক হিসেবে পরিচিত কমিশনার শামীম ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনিশ্চয়তার কারণে অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত অনেকটাই আড়ালে ছিলেন। তবে নভেম্বর মাস থেকে তাদের আবার প্রকাশ্যে দেখা যেতে শুরু করে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাদের তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর কমিশনার শামীম ও তার অনুসারীরা স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে শামীমের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও বাস্তবে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক পুরোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতার অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “যাদের কারণে অতীতে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, ভয়ভীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটত, তারা এখন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি পূর্বে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নতুন রাজনৈতিক মিত্রতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পুনরায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন, তবে সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্বেগের বিষয়।

এ বিষয়ে কমিশনার শামীমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও মন্তব্য করতে রাজি হননি।


আরো সংবাদ পড়ুন...