শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) মিনি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ক্লাইমেট অলিম্পিয়াড ২০২৫’-এর সিলেট বিভাগীয় পর্ব। আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ অলিম্পিয়াডে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির তিনজন শিক্ষার্থী শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন।
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘ব্রাইটার্স’ নামের একটি সংগঠন, যেখানে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি-থ্রি-ই-আর ‘।
সিলেট অঞ্চলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র পরিবেশবিষয়ক ছাত্রসংগঠন ‘গ্রীন এক্সপ্লোর সোসাইটি’।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন ‘ব্রাইটার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সৈয়দুর রহমান সিয়াম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সাহসী ভূমিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বলেন, ‘যুবকরাই আগামী দিনের জলবায়ু নীতিনির্ধারক। টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আজ থেকেই সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংগঠক এবং পরিবেশ সচেতন তরুণ উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন।
এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে অংশগ্রহণ করেন ১০ জন শিক্ষার্থী, যারা ‘মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্ৰাফি এন্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (মুগাস)’-এর সদস্য। অংশগ্রহণকারীরা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, অর্থনীতি এবং ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী।
তাদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও পরিবেশবোধের অসাধারণ পরিচয় দিয়ে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন। তন্মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বানিদীপা চক্রবর্তী অর্জন করেছেন চতুর্থ স্থান, অর্থনীতি বিভাগের ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম জারিন অর্জন করেছেন সপ্তম স্থান এবং কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ মাহদীন অর্জন করেছেন অষ্টম স্থান।
তাদের এই অসাধারণ সাফল্যে মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও ক্লাব সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি করেছে।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্ৰাফি এন্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (মুগাস)-এর সাধারণ সম্পাদক প্রিতম পাল বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ সিলেট অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে প্রমাণ করেছে যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি শুধু প্রযুক্তি ও গবেষণায় নয়, পরিবেশ সচেতনতা ও জলবায়ু নেতৃত্বেও অগ্রগামী। এ ধরনের অর্জন আমাদের আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনে।’
মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহফুজুল হাসান শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এই অর্জন আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও পরিবেশ সচেতনতার প্রতিফলন। আগামী দিনে তারা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে আরও গর্বিত করতে পারে—এই কামনা করছি।’
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও টেকসই জীবনযাপনের প্রচারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।