খুলনার ফুলতলা উপজেলায় একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার সময় পুলিশকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ফুলতলা বাজার এলাকায় অবস্থিত দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এম/এস কুন্ডু স্টোর–এ একদল ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকান থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং দোকানটি তালাবদ্ধ করে দেয়। এ সময় দোকানের মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে তাদের হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, হিন্দুদের এ দেশে ব্যবসা করার অধিকার নেই এবং তাদের ভারত চলে যেতে হবে। হামলার সময় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ প্রথমে জিডি গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছিল।
এ ঘটনায় এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পরও তারা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুন্ডু পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এবং ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছিলেন। এ কারণেই স্থানীয় একটি গোষ্ঠী তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, কুন্ডু পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ন্যায়বিচার ও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।