শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে ভারতের কোনো ভূমিকা নেই: আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্

অনলাইন ডেস্ক / ১২৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫

পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মৌলভী মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ। একই সঙ্গে কাবুল ইসলামাবাদের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় ভারতের কথিত ভূমিকা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তালেবান সরকোরের এই মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। আমাদের নীতিতে কখনও অন্য দেশের বিরুদ্ধে আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হবে না। আমরা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখি এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের কাঠামোর মধ্যে সেই সম্পর্কগুলোকে আরও শক্তিশালী করব। একইভাবে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখব।’

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণ করা, উত্তেজনা তৈরি করা নয়। পাকিস্তানের অভিযোগ ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য।’

উত্তেজনা কোনও পক্ষেরই উপকারে আসে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশ। তাদের মধ্যে উত্তেজনা কারও উপকারে আসে না। তাদের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সুপ্রতিবেশী নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।’

দুই দেশের মধ্যে দোহা চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্কে আসন্ন বৈঠকে চুক্তিটি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়াগুলোর ওপর আলোকপাত করা হবে। তবে সকল পক্ষকে চুক্তির প্রতিটি ধারার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘কাবুল চুক্তির শর্তাবলীর প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে পাকিস্তান যদি তার বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে, তাহলে তারা সমস্যা তৈরি করবে।’

তিনি কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য তুরস্ক ও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুওলোকেও আহ্বান জানিয়েছেন।

মৌলভী মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘যদি কোনও দেশ আফগানিস্তান আক্রমণ করে, তবে আমরা সাহসের সঙ্গে আমাদের ভূমি রক্ষা করবে, কারণ আফগানদের তাদের মাতৃভূমি রক্ষার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।’

আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তান তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটির কোন স্পষ্ট সংজ্ঞা কখনও দেয়নি তারা।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান সরকার কাবুল দখল করার পর থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিম্নমুখি হওয়া শুরু করে। বর্তমানে তা তলানিতে ঠেকেছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে তিক্ততার প্রধান কারণ,পাকিস্তানি তালেবানপন্থি রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে বেশ কয়েক বছর আগে এই গোষ্ঠীটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।

টিটিপির প্রধান ঘাঁটি পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায়। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এই প্রদেশটিতে নিয়মিতই টিটিপির সঙ্গে সংঘাত হচ্ছে পাকিস্তানের সেনা ও পুলিশ বাহিনীর। আর আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপিকে মদত ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে— গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার কাবুলকে এ অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে কাবুল প্রতিবারই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এরই ধারাবাহীকতায় গত ৯ অক্টোবর রাতে কাবুলে বিমান অভিযান চালায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। সেই অভিযানে নিহত হন টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ. দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ টিটিপির বেশ কয়েক জন সম্মুখ সারির নেতা। এ অভিযানের ২ দিন পর ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি সেনা চৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় আফগান সেনাবাহিনী। পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলে এই সংঘাত। পাক সেনাবাহিনীর আন্ত:বিভাগ সংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর)-এর তথ্য অনুসারে, সংঘাতে আফগান সেনাবাহিনীর ২ শতাধিক এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৩ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

চার দিন সংঘাতের পর গত ১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে যায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয় গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানের সেনাবাহনী। হামলায় দুই প্রদেশে নিহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি এবং আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। এরপর রাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয় কাবুল ও ইসলামাবাদ।


আরো সংবাদ পড়ুন...