মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি সন্ত্রাসী চক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পূর্বে সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে এলাকায় তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এসব ব্যক্তি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রেখেছেন। অনেকের অভিযোগ, তারা প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে অর্থের বিনিময়ে প্রভাব খাটাতে সক্ষম হচ্ছেন। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় এখনও এমন একটি পরিবেশ বিরাজ করছে যেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে মানুষ ভয় পান। তাদের মতে, অতীতে যেসব ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আলোচিত ছিলেন, তাদের অনেকেই এখনো স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন এবং সাধারণ মানুষ তাদের বিরাগভাজন হতে চান না।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন সব সময় স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন করে না। বহু এলাকায় ব্যক্তিগত প্রভাব, অর্থনৈতিক শক্তি এবং প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কিছু গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে কার্যত দায়মুক্তির পরিবেশে কাজ করে যেতে সক্ষম হয়, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
এমন পরিস্থিতিতে রাজনগরের একটি পরিবার, যারা অতীতে একই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা, চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অভিযোগ তুলেছিল, নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এখনও এলাকায় সক্রিয় এবং তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ অটুট রয়েছে। ফলে তারা পুনরায় হামলা, হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ থাকা এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায়, অতীতে যাদের সঙ্গে তাদের বিরোধ ছিল, তারা এখনও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।