সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এক গৃহবধূ পুলিশি হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগী ফাহমিদা আক্তারের দাবি, দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার-ইনচার্জ সহ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ দায়ের করার পর তার পরিবারকে আরও বেশি চাপ ও ভয়ভীতির মুখে পড়তে হয়েছে।
ফাহমিদা আক্তার জানান, তার স্বামী মোঃ সৈয়দ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু মণিপুরি মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক বিরোধ ও পূর্ববর্তী ঘটনার জেরে তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়ে আসছে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের পর পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে বরং আরও অবনতি ঘটে বলে তারা দাবি করেন।
ফাহমিদার অভিযোগ, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে যান এবং অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়।
পরিবারের ভাষ্যমতে, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একই কর্মকর্তা পুনরায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। এ সময় অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য আবারও চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফাহমিদা অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার সঙ্গে অসদাচরণের চেষ্টা করা হয়। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনাকালে বাড়িতে তল্লাশির নামে ব্যাপক ভাঙচুর ও তছনছ চালানো হয়। বিদায়ের আগে ঘটনাটি গণমাধ্যম বা উচ্চ কর্তৃপক্ষকে জানালে কঠোর পরিণতির হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।
বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে। তারা অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।