স্থানীয় এক বাসিন্দা ফারহানা (নিরাপত্তার স্বার্থে পূর্ণ নাম প্রকাশ করা হয়নি) অভিযোগ করেছেন যে, তার স্বামীকে অন্যায়ভাবে আটক করে হয়রানি করা হয়েছে।
ফারহানার ভাষ্যমতে, ২৭ মে ২০২৩ সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৩০ মিনিটে পুলিশ তাদের বাসায় এসে তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় থানায় নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, রাত প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে তার স্বামী ফোন করে মুক্তির জন্য ২ লাখ টাকা জোগাড় করতে বলেন।
ফারহানার দাবি, তার স্বামী তাকে জানান যে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অস্বীকার করেন এবং বলেন যে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়ার জন্য অর্থ দাবি করা হয়। ফারহানা বলেন, স্বামীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে এবং অন্য কোনো উপায় না দেখে তিনি তার চাচাতো ভাই মঈনুল ইসলাম রিয়াদের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে মধ্যরাতে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
পরিবারের আরও দাবি, পরবর্তীতে সাংবাদিক সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা ধারণা করেন যে অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফারহানার বক্তব্য- “আমার স্বামী থানায় থেকে ফোন করে জানায় যে তাকে ছাড়িয়ে আনতে টাকা দিতে হবে। আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। তাই দ্রুত টাকা জোগাড় করা ছাড়া আমার সামনে অন্য কোনো পথ ছিল না,” এই প্রতিবেদককে বলেন ফারহানা।
স্বামীর বক্তব্য- “আমি বারবার বলেছি যে আমি নির্দোষ এবং আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমি অভিযোগের প্রমাণ দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু থানায় অবস্থানকালে আমি নিজেকে চাপ ও ভয়ভীতির মধ্যে অনুভব করেছি,” অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশ বা অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরও তদন্ত ও যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।