রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর টানা দুইদিন ধরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন অব্যাহত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় বুধবার (২২ অক্টোবর) মূল্যবান এই ধাতুটির দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২২ মিনিটে (ইস্টার্ন টাইম) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৪ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও সেশনের শুরুতে আগের দিনের তুলনায় দাম কিছুটা বেড়ে ৪ হাজার ১৬১ দশমিক ১৭ ডলারে উঠেছিল।
একই সময়ে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭২ দশমিক ১০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এরআগে গত সোমবার স্বণের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৮১ দশমিক ২১ ডলারে পৌঁছায়, এতে চলতি বছর মূলবান এই ধাতুর মূল্য ৬০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। তবে একদিন পরই মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৩০ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত স্বর্ণ ক্রয়, বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালী চাহিদা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
হাই রিজ ফিউচারের পরিচালক ডেভিড মেগার বলেছেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বর্ণের দরে ঊর্ধ্বমুখীতার পরিপ্রেক্ষিতে, শুক্রবার সিপিআই রিপোর্টের আগে কিছুটা পতন অবাক করার মতো বিষয় নয়।’
মূলত, শুক্রবার প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়েগকারীরা। গত সেপ্টেম্বর মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৩.১ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ফেডারেল রিজার্ভ আগামী সপ্তাহে সুদের হার ০.২৫ শতাংশ কমাতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন। সুদের হার কমলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা বাড়ে।
এছাড়াও বিনিয়োগকারীরা আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে আসন্ন বৈঠকের জন্যও অপেক্ষা করছেন। ফলে তারা এখন নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্যাক্সো ব্যাংকের বিপণন কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন এক নোটে বলেছেন, ‘২০২৬ সালে সোনা ও রূপার দামের ক্ষেত্রে আমরা একটি ঊর্ধ্বমুখী ভবিষ্যদ্বাণী বজায় রেখেছি।’
অন্যদিকে, সোনার সঙ্গে রুপার দামেও ব্যাপক পতন হয়েছে। বুধবার ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স স্পট সিলভার ৪৮ দশমিক ২৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এরআগে মঙ্গলবার ৭ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
ট্রেডার ও বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে লন্ডনের স্পট মার্কেটে রুপার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মূল্যবান ধাতুর বাজারে তারল্য সংকট কিছুটা কমেছে।
এদিকে বুধবার বাংলাদেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত রোববার (১৯ অক্টোবর) প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস), যা সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হয় ।
সূত্র: রয়টার্স