শিরোনাম :
সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রভাবশালী মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র নিয়ে ১১ জরুরি নির্দেশনা স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার মিষ্টি সুবাসসহ দুজন রিমান্ডে হাদি হত্যার দুই আসামিকে ১১ দিনের রিমান্ডের নির্দেশ দিল্লি আদালতের মামুন খালেদ ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ পাঁচ মিনিট আগেই সংসদের অধিবেশনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা সিলেটে পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল চালকের সুনামগঞ্জ-২: ভোটের মাঠে এখনও প্রাসঙ্গিক সুরঞ্জিত বব মার্লের ফুটবলপ্রেম
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রভাবশালী মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ

সিলেট প্রতিনিধি: / ৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় প্রভাবশালী ব্যক্তি মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদ ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক হামলা এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে টার্গেট করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা হুমকি ও নির্যাতনের মুখে পড়ে সোহেল আহমেদ শেষ পর্যন্ত দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং বর্তমানে কানাডায় আশ্রয় প্রার্থনা করছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সে সূত্রে মামুনুর রশিদের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। তবে ২০২৩ সালের জুন মাসে ওই সম্পর্ক ছিন্ন করার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাদের অভিযোগ, এরপর থেকেই মামুনুর রশিদ ক্ষুব্ধ হয়ে সোহেল আহমেদকে নিয়মিত হুমকি দিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তিনি শারীরিক হামলার শিকার হন।

পরিবার আরও জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সোহেল আহমেদ ফেসবুক লাইভে মামুনুর রশিদ, স্থানীয় পুলিশ এবং কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পর তার ওপর চাপ ও হুমকি আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে অভিযুক্তের সহযোগীরা তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং সোহেলের অবস্থান জানতে চায়।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে সোহেল আহমেদ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও কুমিল্লায় অবস্থান করেও নিজেকে নিরাপদ মনে করেননি। পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকায় অবশেষে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।

সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে সোহেল আহমেদের খোঁজখবর নিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কথা জানিয়েছে। এ বিষয়ে তার নিয়োজিত আইনজীবীও নিশ্চিত করেছেন যে, সোহেল আহমেদকে একটি মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সোহেল আহমেদের পরিবারের দাবি, এতে তার ঝুঁকি কমেনি। তাদের মতে, এলাকার অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আগের মতোই তাদের প্রভাব বজায় রেখেছেন। ফলে মামুনুর রশিদের মতো ব্যক্তিদের ক্ষমতা এখনও অটুট রয়েছে।

সোহেল আহমেদের আইনজীবী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে ফিরে গেলে তিনি গুরুতর ক্ষতির শিকার হতে পারেন, এমনকি প্রাণনাশের ঝুঁকিও রয়েছে। পাশাপাশি চলমান মামলার কারণে গ্রেপ্তার, আটক বা নির্যাতনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


আরো সংবাদ পড়ুন...