শিরোনাম :
হামহাম জলপ্রপাত রোমাঞ্চ প্রিয়দের হাতছানি দিচ্ছে কুরমার গহীন অরণ্য বিশ্বকাপ দেখা যাবে বিটিভিতে, ৭৩ কোটি টাকায় কেনা হচ্ছে সম্প্রচারস্বত্ব লাউয়াছড়া উদ্যানের গাছ পাচারের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র জকিগঞ্জে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস খাদে, নারী-শিশুসহ নিহত ৪ সিলেটসহ বিভিন্ন সীমান্তের নিরাপত্তায় বিজিবির পাশাপাশি আনসার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয় সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রভাবশালী মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ নতুন দিকনির্দেশনা নাকি পুরোনো বিতর্ক: বাংলাদেশের শিক্ষা নীতির ভবিষ্যৎ কী? এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র নিয়ে ১১ জরুরি নির্দেশনা
বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের এক প্রবাসী দোসরের কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে

স্টাফ রিপোর্টার: / ৫৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫

২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের উত্তাল সময়ে বাংলাদেশের প্রবাসী সমাজের বড় অংশ ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পক্ষে সংহতি সমাবেশ করেছে। একই সময়ে রিপোর্ট অনুযায়ী কিছু প্রবাসী গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে

অভিযোগ উঠেছে যে তারা একটি সহায়ক নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করেছে – নির্যাতনকে ন্যায্যতা দেওয়া, বিদেশে কর্মীদের ভয় দেখানো, বা পাল্টা প্রতিবাদ সংগঠিত করা। এই সমস্ত আনুগত্যশীল প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের সহায়তায় আওয়ামী লীগ নেতারা বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করেছেন। কিছু অনুমান অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার অনৈতিকভাবে বহির্গমন হয়েছে।

গত সপ্তাহে পল্লবী থানার গোপন সূত্র থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান সম্পর্কে তথ্য পান। অভিযোগ আছে যে, তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে কাজ করেছেন।

তার সঙ্গে বিলিয়নিয়ার মুহাম্মদ আজিজ খান (সিঙ্গাপুরে ৪৯তম বিলিয়নিয়ার ও CIP হিসেবে তালিকাভুক্ত) এবং ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের (বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা) সম্পর্ক রয়েছে বলে, বলা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৩ মে, পল্লবী থানা পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করে।

জব্দকৃত কাগজপত্রের মধ্যে ছিল সাবেক আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিজনেস কার্ড ও পাসপোর্টের অনুলিপি, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও তাঁর স্ত্রী সম্পর্কিত নথি, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খানের সিঙ্গাপুর এনআইডির ফটোকপি, এবং সিঙ্গাপুরে তোলা কয়েকটি অফিসিয়াল ছবি। এতদিন পরে কেন এই বিষয়টি সামনে এসেছে, এ প্রসঙ্গে পল্লবী থানার কর্মকর্তারা আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, ভোটের পর জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার ক্ষমতায় ওঠার পর, এই রিপোর্টটি এখন প্রকাশ করার সময় এসেছে।

এই সমস্ত জব্দকৃত কাগজপত্র – যা কিনা নিশ্চিতভাবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা প্রমাণ করে। তাকে মানি লন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রবাসী ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রবাসী মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান অবস্থা বুঝে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিবারসহ বিদেশে সটকে পড়ে। পূর্বে তার পরিবার মালয়েশিয়ায় লাক্সারি কনডোমিনিয়ামে থাকতো। সে নিজেও সিঙ্গাপুরে বিলাসী জীবন যাপন করতো বলে জানা যায়।

যদিও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান তার বিরুদ্ধে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে বর্তমান প্রশাসন মনে করছে, অস্বীকার করা ছিল এক প্রকারে আইওয়াশ। সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব, বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব তোফায়েল আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, ক্যাবিনেট সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন প্রমুখের সাথে তার সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তৎকালীন অনেক হোমরাচোমরা সিঙ্গাপুরে গেলে, তিনি আতিথেয়তা দিতেন বলে জানা যায়।

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডে হাই প্রোফাইল প্রোগ্রামে তার উপস্থিতি দেখে এর সত্যতা পাওয়া যায়। সে যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়, যারা কিনা আওয়ামী লীগের সাপোর্টার হিসেবে পরিচিত ছিল, লেখালেখি করতো বলে জানা যায়।

মোহাম্মদ আশিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৩-এর অধীনে মামলা ছিল। কিন্তু অন্যান্য অনেক আওয়ামী লীগ দোসরদের মতো, বিদেশে পলাতক থাকায়, তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করা এই মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না। এই রকম দেশের শত্রু, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কোলাবোরেটরদের দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।


আরো সংবাদ পড়ুন...