সুদূর কানাডায় অবস্থান করা সত্ত্বেও সিলেটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা প্রদান, রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মতো গুরুতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। কাদির এন্টারপ্রাইজ-এর কর্ণধার, কানাডাপ্রবাসী ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় দায়ের করা এই মামলাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সচেতন নাগরিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কানাইঘাট থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ জামিলুর রেজা বাদী হয়ে উক্ত থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলায় প্রবাসী আব্দুল কাদির সহ একাধিক ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার চক্রান্ত, সমাজে অশ্লীলতা ছড়ানো, রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার, পুলিশ প্রশাসন সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য প্রদান এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়।
তবে ভোক্তভূগী কাদির কানাডা থেকে জানান, এটি একটি মিথ্যা এবং বানোয়াট মামলা কারণ তার সাথে অনেক ধরে এলাকার প্রভাশালী হেফাজতে ইসলামীর নেতা মুফতি আব্দুর রহমান ও মোঃ মমতাজ উদ্দিনের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। তিনি দাবি করেন দেশে থাকাকালীন তার উপর আক্রমণ ও করেন উল্লেখিত হেফাজত নেতারা। এ মামলা প্রশাসনকে ব্যবহার করে করা হয়েছে বলে দাবি করেন ভোক্তভুগীর পিতা দুদু মিয়া।
স্থানীয়দের দাবি, মামলার মূল আসামি মোঃ আব্দুল কাদির দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাস করছেন। অপরাধ সংঘটনের তথাকথিত সময়ে তিনি দেশে উপস্থিতই ছিলেন না। দেশে অনুপস্থিত একজন প্রবাসীর বিরুদ্ধে কীভাবে পুলিশকে বাধা দেওয়া বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হলো, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ ইহা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন এক চক্রান্ত। কোনো বিশেষ মহল ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক আক্রোশ থেকে আব্দুল কাদির ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং মানসিক চাপে রাখার জন্য এই গায়েবি মামলাটি করিয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ সিলেটের ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই মামলার সঠিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হয়। একজন নিরীহ প্রবাসী ও তার পরিবার যেন আইনি হয়রানি থেকে মুক্ত হতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
এ ব্যাপারে মুফতি আব্দুর রহমানকে ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন।